বন্ধাত্ব নারীর চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ন হোমিওপ্যাথিক রিমেডিগুলোর সংক্ষিপ্ত বর্ননা


বন্ধ্যাত্ব স্বামী স্ত্রী দুজনের কারণে হতে পারে। দেরি করে বিয়ে করা। দেরি করে সন্তান নেওয়া। আগে যেমন বয়স বেশি হওয়ার আগেই দম্পত্তিরা বাচ্চা নিত এখন সেটা হচ্ছে না। ৩২ থেকে ৩৫ বছর হয়ে যায়। বাচ্চা নিতে অনেক দেরি হচ্ছে। এ কারণে হতে পারে বন্ধ্যাত্ব।

ছেলেদের বেলায় হোক বা মেয়েদের বেলায় হোক। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে যে তার শুক্রকীটের পরিমাণ কমে যায়, শুক্রকীটের গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়। সেটিও আমাদের মাথায় রাখতে হবে। আর কিছুটা রয়েছে হরমোনাল কারণ। শরীর থেকে যে হরমোন আসছে সেটা পর্যাপ্ত পরিমাণ কাজ করছে না। অথবা তার টেস্টিস যথাযথ জায়গায় নাই। হয়তো সেটি পেটের ভেতর রয়ে গেছে। অনেক মেয়েদের জরায়ু টিউমার হতে পারে। বর্তমান পেক্ষাপটে অনেক নারীর একাধিক পুরুষের সাথে সহবাস করার কারণে জরায়ুতে ইনফেকশন হতে পারে। সারাদিন যারা বাইরে দাঁড়িয়ে কাজ করে এদের বেলায় ভেরিকোসিল বেশি হয়। এই ভেরিকোসিলও শুক্রাণুর গুণাগুণ নষ্ট করে দেয়। ফলে বর্তমানে সময় বন্ধ্যাত্ব বেড়ে যাচ্ছে।

🍏বন্ধাত্বের চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথিক রিমেডি
🍒🍒🍒🍒🍒🍒🍒🍒🍒🍒🍒🍒🍒🍒🍒
০১.কালোফাইলম : -
সাদা স্রাবের কারনে নারী গর্ভধারনে অসমর্থ হলে কলোফাইলম উপযোগী।
০২.নেট্রাম কার্ব : -
স্বামী-স্ত্রী সহবাসের পর স্বামীর বীর্য স্রীর যোনি হইতে বাহির হইয়া আসে বিধায় স্তান লাভ করতে অসমর্থ হয় তবে নেট্রাম কার্ব উপযোগী।
০৩.হেলোনিয়াস : -
অতত্যন্ত খিটখিটে স্বভাব,গভীর বিষাদপুর্ন।জরায়ুর নানা রোগ ভোগগের কারনে সন্তান না হলে এ ঔষধটি উপযোগী।
০৪.কোনিয়াম : -
নারীর অনিয়মিত মাসিক,মাসিক কম,মাসিকের সময় স্তনে বেদনা এই লক্ষণ সমষ্টি যে নারীর মাঝে পাওয়া যায় তার জন্য উপযোগী।
০৫.অরাম মিউর নাট : -
জরায়ু রোগাক্রান্ত রোগিনীর জন্য অরাম মিউর নাট উপযোগী।জরায়ুতে ছোট ছোট টিউমার,বেশী বেশী রক্ত প্রদর ইত্যাদি লক্ষনে উপযোগী।
০৬.বোরাক্স : -
ডিমের সাদা অংশের মত প্রচুর সাদা স্রাব সব সময় যোনী ভিজিয়া থাকে।চুল জরিয়ে যায়,উপর হতে নিচে নামতে ভয় নেই বন্ধ্যা নারীল জন্য উপযোগী।
০৭.অরাম মেট : -
সন্তান না হওয়ার কারনে ভীষণ মনোকষ্ট,সর্বদা মনমরা,সন্তান পাওয়ার চিন্তা সবসময় চিন্তিত সেইরোগীর জন্য অরাম মেট উপযোগী।
০৮.এগনাস্টাস ক্যাকটাস : -
যে রমনীর মাসিক অনিয়মিত,স্বল্পস্রাব,সাদা বা হলুদ প্রদর স্রাব কাপড়ে দাগ পরে সেই নারীর বন্ধ্যাত্বের জন্য উপযোগী।
০৯.উথানিয়া : -
ইহার অপর নাম অশ্বগন্ধা এই ঔষধটি নিয়মিত বন্ধ্যা নারীকে নিয়মিত দিলে সে সন্তান লাভের উপযোগী হয়।এ ঔষধটি সেবনে নারীর স্বাস্হ্য সবল হয় ডিম্বানু উৎপন্ন হয় ও সন্তান লাভের উপযুক্ত হয়।
১০.আয়োডিয়াম : -
রাক্ষুষে ক্ষুধা রোগিনী ঠিকমত খায় কিন্তু শরীর ক্রমশ: শুকাইয়া যায়।স্তন শুষ্ক,ডিম্বকোষ,জরায়ুর রোগ ভোগ ইত্যাদির কারনে নারী সন্তান উৎপাদনে অসমর্থ হলে আইয়োডিয়াম উপযোগী।
১১.প্লাটিনা : -
রোগিনী প্রবল কামাতুর,নিজেকে শ্রেষ্ঠ মনে করে তলপেটে একটি জীবিত কোন বস্তুর নড়াচড়া অনুভব করেনমণ মণ সর্বদা পরিবর্তনশীল এই রমনীর জন্য প্লাটিনা উপযোগী।
১২.পালসেটিলা : -
নম্র স্বভাবের রমনী,ক্রন্দনশীল,মন পরিবর্তনশীল,জরায়ু তলপেট,কোমর বেদনায় কাতর,বাধক বেদনা মাসিক কম ইত্যাদি লক্ষণ সমষ্টি যে নারীর মাঝে পাওয়া যায় তার জন্য পালসেটিলা উপযোগী।


জরায়ু ও ডিম্বাশয়ের বিকৃতির জন্য অধিকাংশ স্ত্রীলোক বন্ধ্যা হইয়া থাকে।এই জন্য জন্য সকল লক্ষণ বিবেচনায় ঔষধ প্রয়োগ জরুরী।ধাতু দোষের কারনেও বন্ধ্যাত্ব হতে পারে তাহার জন্য ক্যালকেরিয়া কার্ব, সিমিসিফুগা, ব্যাসিলিনাম, ফেরামমেট, ডাস্কোরিয়া, ফসফরাস, এসিড ফস, স্যাবাইনা, সিপিয়া, সালফার প্রভৃতি ঔষধ ব্যবহার করা যেতে পারে।নারীর বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় ব্যবহৃত ঔষধসমুহের লক্ষন সহ আলোচনা করা হল : >>>>>>>
০১.নেট্রামমিউর : -
লবনপ্রীয় রোগীনির মাসিকের গোলযোগ,সহবাসে অনিচ্ছাসহ নেট্রাম মিউরের
সার্বলাক্ষনিক বিবেচনায় যদি নেট্রাম মিউরের উপযোগী রোগী হয় তবে এ ঔষধটি একটি মুল্যবান ঔষধ।
মাত্রা : - ২০০শক্তির ৪ বড়ি দিনে ২বার আহারের পরে।
০২.ক্যালকেরিয়া ফ্লোর : -
জরায়ুতে টিউমার,পলিপাস সাদাস্রাব ও ওভারীর রোগসমুহ যে রোগীর মাঝে আছে সেই রোগীর জন্য ক্যালকেরিয়া ফ্লোর উপযোগী।
মাত্রা : - ২০০শক্তির ৪ বড়ি দিনে ২বার আহারের পরে।
০৩.সাইলেসিয়া : -
ঋতুর পরিবর্তে সাদাস্রাব,স্রাবের পরিমান অনেক বেশী,হাজাকারক,স্রাব হওয়ার আগে তলপেটে বেদনা অনুভব ,ফেলোপিয়ান টিউবে পুজ বা পানি জমা। যোনি ফোলা,স্রাবে অত্যন্ত দুর্গন্ধ,অনিয়মিত মাসিক ,ইত্যাদি লক্ষন যে রেগিনীর মাঝে আছে তার জন্য অত্যন্ত প্রযোজনীয় ঔষধ।
মাত্রা : - ২০০শক্তির ৪ বড়ি দিনে ২বার আহারের পরে।
০৪.ক্যালকেরিয়া ফস : -
জরায়ুর দুর্বলতা,মনে হয় জরায়ু নিচে নেমে যাচ্ছে,পায়খানা প্রস্রাবের পরে রোগ বেশী মনে হয়,জরায়ুর স্হানচ্যুতি।সাদা স্রাব দুধেরমত সাদা। মাসিকের পরে সাদা স্রাব।মাসিকের রং কখনও লাল কখনও কাল ইত্যাদি রোলক্ষন যে রোগিনীর মাঝে পাওয়া যাবে তার জন্য ক্যালকেরিয়া ফস উপযোগী।
মাত্রা : - ২০০শক্তির ৪ বড়ি দিনে ২বার আহারের পরে।
০৫.নেট্রাম ফস : -
জরায়ু ও যোনির স্রাহ হলুদ,পাতলা,অম্ল গন্ধ যুক্ত ঘ্রানে বমি আসলে সেই রোগিনীর জন্য নেট্রাম ফস অত্যন্ত উপযোগী ঔষধ।
মাত্রা : - ৬,১২শক্তির ৪বড়ি দিনে তিন বার আহারের পরে।
বন্ধ্যাত্বের মুল কারন অনুসন্ধান করিয়া তার প্রতিকার প্রয়োজন।বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসা একটি জটিল ব্যাপার।বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার জন্য সময়ের প্রয়োজন । নারীর বন্ধাত্ব চিকিৎসার সফলতার জন্য নারীর সুস্হ্যতা প্রয়োজন এ জন্য পুষ্টিকর খাদ্য যেমন ঘী ও দুগ্ধজাত দ্রব্য পথ্য দিলে প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি হয়।
সবাই ভাল থাকবেন।সুস্হ জীবন,সুন্দর থাকার প্রধান উপকরন।শুভরাত্রী।
📘📘📘📘🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿📘📘📘📘
🌿সঠিক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পেতে হলে জানতে হবে তবে চিকিৎসকের পরামর্শ/নির্দেশনা
ছাড়া কোনো ওষুধ সেবন করা  উচিত নয়।

Comments

Popular posts from this blog

আঁচিল: কারণ, ধরন এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

প্রজাপতি আমাদের কি উপকারে আসে

টনসিলের সমস্যার জন্য হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায়